বিজয় এসেছে, কিন্তুযাদের জীবনেপলাশ ফোটেনি, ফোটেনি শিমুল

আমি একটা বইবারবার পড়ি।জাহানারা ইমামএর "একাত্তুরেরদিনগুলি" ১৬ই ডিসেম্বরে বিজয়এসেছে, কিন্তুফেরে নিযুদ্ধে যাওয়াবড় ছেলেরুমি, ফেরেনি রুমিরবন্ধুদের অনেকেই।মায়ের একফোঁটা করেঅশ্রু জমিয়েরাখা সেইডায়রি আমিবারবার পড়ি।আর বিষাদবোধেআক্রান্ত হই।
১৬ই ডিসেম্বর আমাদেরএই প্রজন্মেরঅনেকে হয়তোকেবল অন্যসব দিবসেরমতোই আরেকটালৌকিকতা বলেমনে করে।তারা ভুলেগেছে, এইদিনে বিজয়এসেছে, কিন্তুবাংলাদেশের কতো পরিবারে এইসব দিনবেদনা ছাড়াআর কিছুমনে করিয়েদেয় না।

কারও কথা নাশুনে যুদ্ধেরপ্রস্তুতি নিতে চলে সীমান্তের ওপাড়েচলে যাওয়াডানপিটে ছেলেটিরজন্যে বসেছিলো যেমা, তারঅপেক্ষার প্রহরআজো ফুরোয়নি। হয়তোএইদিন আসলেইস্বামীর জন্যেআজো অপেক্ষায়থাকা নববধূটিআজো মনেকরে, যুদ্ধতো শেষহলো, এইবুঝি দরজায়কড়া নাড়বেকেউ। স্বামীরমরে যাওয়ারদিনটি ভালোমতোনজানা নেই, তাই এখনোহয়তো এইদিনটি আসলে, সামান্য স্মৃতিকেআঁকড়ে ধরেকোরান তেলাওয়াতকরে যায়কোন বিধবা।চল্লিশবছর যেকাজ তিনিকরে গেছেননিয়ম নাভেঙে।
হয়তো সিথির সিঁদুরমুছে ফেলেছেকতো বঁধূএই দিনে।
এই দিনটি আসারআগেই সীমান্তেরওপাড়ে শরণার্থীশিবিরে প্রাণহারিয়েছে যেবৃদ্ধ, তারবংশধরদের কাছেহয়তো আজকেরদিনটি কান্নাছাড়া আরকিছু বয়েআনে না।


বাবার স্মৃতি ভালোকরে মনেনেই সেইশিশু যারএকাত্তুরে জন্ম তার বয়স আজচল্লিশ। এইদিন আসলেসে কেনোঅন্যমনা হয়েযায়? তারদুঃখকে আমরাকি স্পর্শকরতে পেরেছি?

তাহলে, আমরা কেনোবিজয় দিবসআসলে বলবো- আমরা আজনাচবো, আমরাআজ গাইবো? আমাদের কণ্ঠেকেনো আজঅনুরণন উঠবে- পলাশ ফুটেছে, শিমুল ফুটেছেআজ?
আমাদের সেই অধিকারআছে কি?

বিজয় এসেছে, কিন্তুযাদের জীবনেআজো সাইত্রিশবছর পরেওপলাশ ফোটেনি, কৃষ্ঞচূড়াওনয়, তাদেরসেই দুঃখকেবোঝার মতোনসাধ্য আমার, আমাদের নেই।তাই যারাবলে, বিজয়েরএই দিনেআমরা নাচবো, গাইবো গান- তাদের সাথেআমি কখনোইসহমত হতেপারি না।আমি বেদনাহতহয়ে এইআমার ঘরেথাকা লাল-সবুজ পতাকারমাঝখানে রক্তদিয়ে তৈরিবৃত্তের দিকেঅপলক তাকিয়েথাকি।