হিন্দু ধর্ম সম্প্রদায়ের দিক থেকে টুংগীপাড়ায় রয়েছে গর্ব করার মত ব্যক্তিত্ব বিশেষত বাঁশুড়িয়া গ্রামের প্রয়াত জগদান্দ মহাশয়ের কথা সর্বজন বিদিত। তাঁর সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা আজও মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। আজও তাঁর তীর্থ ভূমি কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে হিন্দু মুসলিমের মিলন মেলা। যে মেলা টুংগীপাড়া বাসীর ইতিহাস- ঐতিহ্যের এক উজ্জলতম ধারক ও বাহক।
ওরাকান্দি -শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুর ধর্মীয় ও সামাজিক কাজকর্ম পরিচালনার জন্য এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে বাংলা ১৩৩৯ সালের ২৪শে আশ্বিন, ১৯৩২ইং শ্রীশ্রী হরি-গুরুচাঁদ মিশন নামে একটি সংঘঠন গড়ে তোলেন । সমগ্র মতুয়া সমাজকে একই ধর্মীয় পতাকাতলে একত্রিত করে দশ ও জাতির বহুমূখী উন্নয়ন করাই ছিল এই সংঘঠনের প্রধান উদ্দেশ্য । মিশনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল শ্রীধাম ওড়াকান্দি । ঠাকুরের জীবদ্দশায় মিশনের মাধ্যমে বহূ উন্নয়ন মুলক কাজ করাহয় । শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ-এর কনিষ্ঠ পুত্র শ্রী সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর উক্ত মিশনের পরিচালনায় -নমঃশুদ্র সুহ্রদ- নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন । মিশনের উদ্যোগেই ঠাকুর বাড়ীর পাশে দেবী শান্তি সত্যভামা বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ।
তখন মিশনের সভাপতি ছিলেন শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ-এর পৌত্র শ্রীপতিপ্রসন্ন ঠাকুর । এখানে উল্লেখ্য যে, ঠাকুরের তিরোধানের পর মিশনের কর্মকান্ড স্তিমিত হয়ে পরে । পরবর্তীকালে সেই মিশন শ্রীশ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন নামে নব উদ্যোগে কর্মকান্ড পরিচালনা করছে । বাংলাদেশ সহ বহীর্বিশ্বে মতুয়াবাদ প্রচারের ও প্রসারের জন্য এবং জনহিতকর কাজে প্রায় শতাধিক শাখা কাজ করে চলছে । মতুয়া দর্পন নাম একটি ধর্মীয় পত্রিকা প্রচারিত হচ্ছে মিশনের পরিচালনায় । তাছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বহুস্থানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মতুয়া সম্মেলন ।গুরুচাঁদ প্রতিষ্ঠিত সেই হরি-গুরচাঁদ মিশনের পূনঃজাগরনের বাস্তব রূপ দিয়েছেন তারই সুযোগ্য উত্তরসূরী শ্রী পদ্মনাভ ঠাকুর।




0 Comments