সোমবার সকাল ১০টা থেকে এক ঘণ্টা উপজেলার জলিরপাড় বাসট্যান্ডের গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কে প্রায় ২০০ হতদরিদ্র লোকজন এ বিক্ষোভে অংশ নেয়।
খবর পেয়ে জলিরপাড় ইউপি চেয়ারম্যান অখিল বৈরাগী, সাবেক চেয়ারম্যান মিহির রায়, জলিরপাড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব মজুমদার ও জলিরপাড় ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর সুভাষ বৈদ্য গিয়ে ত্রাণ দেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জলিপাড় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ জলিরপাড় গ্রামের নাজমা বেগম বলেন, “আমাদের এলাকার ২০০ পরিবার খুবই গরীব। তারা ভ্যান চালিয়ে ও দিনমজুরের কাজ করে সংসার করে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে আমাদের কাজ নেই। হাতে টাকা-পয়সাও নেই। পরিবারের সদস্য নিয়ে কোনরকমে এক-আধবেলা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি।”
জলিপাড় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ জলিরপাড় গ্রামের ফজর আলী শেখ বলেন, “ইউপি চেয়ারম্যান অখিল বৈরাগী সরকারি ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি করেছেন। তিনি তার দরিদ্র ও স্বচ্ছল সমর্থকদের ত্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু আমরা একবারও ত্রাণ পাইনি। ত্রাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। অবশেষে বাধ্য হয়েই পথে নেমেছি।”
ওই গ্রামের জামাল শেখ বলেন, “সরকার সব উপজেলার প্রকৃত গরিব মানুষের তালিকা করেছে। এ তালিকা অনুযায়ী সরকার ত্রাণ পাঠায়। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা এটি নয়-ছয় করে। তাই আমাদের হাতে ত্রাণ পৌঁছায় না।”
তবে জলিরপাড় ইউপি চেয়ারম্যান ত্রাণ বঞ্চিতদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি ত্রাণ বিতরণে স্বজনপ্রীতি করি না। প্রতিবার প্রতি ওয়ার্ডে ৫০/৬০ পরিবারে জন্য ত্রাণ আসে। কিন্তু চাহিদা থাকে অনেক। তাই সবার চাহিদা মেটাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব মেম্বরদের দেওয়া আছে। ত্রাণ পাওয়ার উপযুক্তদেরই ত্রাণ দিতে মেম্বরদের নির্দেশ দিয়েছি।”
ত্রাণ বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে জলিরপাড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর সুভাষ বৈদ্য বলেন, “চেয়ারম্যান আমাকে ত্রাণ বিতরণের কোন দায়িত্ব দেননি। তিনি তার লোকজন দিয়ে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।”



0 Comments